| চিত্রঋণ -- আন্তর্জাল |
উদ্যোগ পর্বের প্রায় শেষের দিকে এসে, মাতা (রাজমাতা?) কুন্তী বাসুদেবকে স্পষ্ট বলে দিলেন, যুধিষ্ঠিরকে গিয়ে আচ্ছা করে দু’কথা শুনিয়ে দিতে ওঁর হয়ে। বার্তা খুবই স্পষ্ট -“পুত্র, তুমি মন্দমতি, শোত্রিয় ব্রাহ্মণের ন্যায় কেবল শাস্ত্র আলোচনা করে তোমার বুদ্ধি বিকৃত হয়েছে, তুমি কেবল ধর্মেরই চিন্তা করছ... তুমি পিতৃপিতামহের আচরিত রাজধর্ম পালন করো, তুমি যে ধর্ম আশ্রয় করতে চাও তা রাজর্ষিদের ধর্ম নয়। দুর্বল বা অহিংসাপরায়ণ রাজা প্রজাপালন করতে পারেন না... মহাবাহু, সাম দাম ভেদ বা দণ্ডনীতির দ্বারা তোমার পৈতৃক রাজ্যাংশ উদ্ধার করো। তোমার জননী হয়েও আমাকে পরদত্ত অন্নপিণ্ডের প্রত্যাশায় থাকতে হয়, এর চেয়ে দুঃখের আর কী আছে?”
যুধিষ্ঠিরের ধর্ম চেতনা এবং অবস্থানগত দার্শনিক দৃষ্টিকোণকে বাসুদেব কৃষ্ণ ছাড়া আর কেউ এই ভাবে তুলোধনা করেনি। এবং এত কিছুর পরে আবার ‘বিদুলা নামনী ক্ষত্রিয়া জননীর উপাখ্যান’-রূপী ভোকাল টনিক! এবং তারও শেষে তীর্যক খোঁচার সঙ্গে বলা– “কোনও রাজা শত্রুর পীড়নে অবসন্ন হ’লে তাঁকে তাঁর মন্ত্রী এই উৎসাহজনক তেজোবর্ধক উপাখ্যান শোনাবেন।” একেবারে গীতায় একের পর এক জীবন-দর্শনের কথা এবং বিশেষ কর্মযোগের বৃত্তান্ত শুনিয়ে স্ট্র্যাটেজিক সারথী কৃষ্ণ, ধনঞ্জয়ের যে মগজ ধোলাইটি করেছিলেন, উদ্যোগপর্বে যুধিষ্ঠিরের প্রতি মাতা কুন্তীর এই বার্তা যেন তারই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ! দেবী কুন্তীর এই আকস্মিক নাতিশীতোষ্ণ বার্তা, একদম মেঘ না চাইতেই জল। বাসুদেব নিজেও এর থেকে ভালো করে নিমরাজী যুধিষ্ঠিরকে সোজা রাস্তায় আনতে পারতেন না।
দুর্যোধন প্রথম থেকেই রনং দেহী ছিলেন, মহাভারতের অদ্ভুত প্রতিনায়ক, প্রতিষ্ঠিত 'দুষ্টু লোক'। পাণ্ডবদের কাছে দৌত্য করতে আসা মহামতী বিদূরের মুখে কৌরবদের শাসানী শুনে যুধিষ্ঠিরও স্থৈর্য হারিয়ে সপাটে বলেন, “আমার রাজ্য ফিরিয়ে দিলে ক্ষমা করতে রাজী আছি, না হলে ময়দানেই ফয়সালা হবে।” আর বাকি এদিক ওদিক কেউ যদি যুদ্ধটাকে এড়িয়ে যাওয়ার মত সামান্য প্রচেষ্টা করতে উদ্যত হ’ন, সেখানে প্রবল উসকানি দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন বাসুদেব কৃষ্ণ। এইরকম পরিস্থিতিতে, অন্য কেউ নয়... স্বয়ং কুন্তী যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করছেন সরাসরি। সরাসরি কুন্তীভোজ সমেৎ নিজের পিতৃকুলকে স্বভাগ্যের এই দীর্ঘায়িত দুর্দশার জন্য দোষারোপ করছেন। একদিকে যেখানে আর এক বর্ষীয়ান কূলবধু মাতা গান্ধারী আসন্ন যুদ্ধের আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত... সেখানে বেপরোয়া ভাবে যুদ্ধের আবশ্যকতাকে আহ্বান জানাচ্ছেন আর এক ক্ষত্রিয়া, মাতা কুন্তী। যেন তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী, কেশব তাঁর সন্তানদের হয়ে দৌত্য করতে এমনি এমনি আসেননি! সব দিক বেঁধেই এগোনো হবে, কেবল ওই মিনমিনে বড়ো ছেলেটি বেঁকে না বসলেই হ’ল।
এই উদ্যোগ পর্ব যেন মহাভারতের এক পর্দা সরিয়ে দেওয়ার পর্ব। উন্মোচনের পর উন্মোমোচন ঘটছে একের পর এক চরিত্রের... কোথাও জোরালো ভাবে, কোথাও সূক্ষ্ম ভাবে। এই পর্বেই কিছু চরিত্রের মনের ভাব, অদ্ভুত মুনশীয়ানার সঙ্গে এক উজ্জ্বল আলোকে নিয়ে আসা হয়েছে, যা আগে সেই ভাবে ধরা পড়েনি। সেই এক আদিম প্রবৃত্তি উঁকিঝুঁকি দিয়েছে বিদগ্ধদের মনেও... দশ জনের মধ্যে আট জন প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে আসন্ন যুদ্ধের পক্ষে থাকাই সমীচীন বোধ করলেন। এমন কি কামারের এক ঘা’র মত, স্বয়ং বাসুদেবও শান্তির প্রস্তাবের বকলমে পাণ্ডবপক্ষের হয়ে এমন আস্ফালনটি করে গেলেন ভরা সভায়, যে এরপর দুর্যোধনের মত রগচটা মানুষের ‘প্রেস্টিজ’ বাঁচাতে গেলে গলাফাটিয়ে বলতেই হয় ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী!’ একটা দোতলা বাড়ির বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া মামলায় কে ঠিক কে ভুল সেসবের ঊর্দ্ধে গলার শিড়া ফুলিয়ে তর্ক চলে... কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি এমনি এমনি ছেড়ে দেয় না, আর এ তো রাজপাটের ব্যাপার!
--- --- ---
আসলে পরিকল্পনা, কৌশল, ষড়যন্ত্র, সিদ্ধান্ত... এই জিনিসগুলো হয়েই এইরকম। স্কুলের বইয়ে ধরিয়ে দেওয়া পাঠ্যপুস্তকে একের পর এক ঘটনা আর সাল-তারিখ, এবং আর একটু কপালে ভাঁজ পড়া স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্বে ‘কেন হইয়াছিল... না হইলে কী হইত... বিস্তারিত ঘটনা এবং ফলশ্রুতি’-- এইটুকুই তো ইতিহাস নয়! বিভাগীয় গভীরতা বা পাঠ্যসূচীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ধৃষ্টতা দেখাই কী করে?... কিন্তু তবু কেমন মনে হয়, পরীক্ষার নম্বরকে শেষ কথা ধরে নেওয়া ব্যবস্থার মধ্যে ইতিহাস শব্দের আসল সংজ্ঞাই ম্লান হয়ে গেছে। বর্তমানের দর্পণে অতীতের প্রতিবিম্ব দেখে ভবিষ্যৎকে খোঁজার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা তা-ই হ’ল ইতিহাস। ঠিক যেমন ইতিহাসবীদ ই এইচ কার (E. H. Curr) বলেছিলেন, "It is a continuous process of interaction between the historian and his facts, an unending dialogue between the past and the present."
রাজাদের স্থাপত্য আর যুদ্ধ-বিগ্রহর গপ্পো নয় শুধু; ইতিহাস এক নিরন্তর অন্বেষণ। যেখানে দাঁড়িয়ে আনন্দমঠের সেই ইন্ট্রোস্পেকশনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে - “মা যাহা ছিলেন... মা যাহা হইয়াছেন”। সেই দর্পণের দিকেই যদি দৃষ্টি ফেরাই, উপমহাদেশের সেই প্রতিবিম্ব কেমন কালতরঙ্গে খেলা করে। সেই একই রকম উদ্যোগ পর্বের মঞ্চাভিনয় চলেছে এক এক জায়গায়, এক এক ভাবে। সেই পূর্বপরিকল্পনা মত ঘুঁটি সাজিয়ে ফেলা, চিকের আড়ালে ষড়যন্ত্রের দ্যূতক্রীড়া। সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক আসন্ন যুদ্ধকে ইন্ধন যোগানো, যাকে এড়িয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন হ’ত না। সেই একই ভাবে রাষ্ট্রসংঘে উত্থিত শান্তি প্রস্তাবের অন্তরালে কালো ধোঁয়া উঠতে থাকে... সে ধোঁয়া আকাশ ঢেকে ফেলে কখনও চেচনিয়ায়, কখনও গাজায়, কখনও ভিয়েতনামে, কখনও ইরাকে, কখনও লিবিয়ায়, কখনও পূর্ব ইয়ুরোপে।
নিশ্চিতরূপেই, যুদ্ধ হ’ল স্বার্থের সব থেকে বৃহৎ এবং নৃশংস আত্মপ্রকাশ (যার ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে থাকে স্বার্থ, ক্ষমতা আর অহংকার)। সে দুনিয়ার যে কোণেই হোক, যে কারণেই ঘটুক। সেই দর্পণের প্রতিবিম্ব ঠিক চিনিয়ে দেয় কে তখন ছিল, আর এখন এমন হয়ে উঠছে চোখের সামনে। আমরা স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে খালাস, অথচ সময় যন্ত্রের নাবিক ইতিহাস, ঠিক পাল তুলে অতীতের সমুদ্র থেকে বর্তমানের সাগরতটে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চলে। সবকিছুরই এক চিরপরিচিত প্যাটার্ন থেকেই যায়। আমরা যখন কিছুটা চিনতে পারি, বুঝতে পারি-- সেই পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত, অবস্থানগত পক্ষপাতের মধ্যে কোথাও একটা গলদ থেকে গেছে... ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায়। এদিক ওদিক থেকে শুধু চাপা দীর্ঘশ্বাস আর স্বগতোক্তি ভেসে আসে ‘কী ছিল... আর কী হয়ে গেল!’ মহাভারতের উদ্যোগ পর্বে যা ঘটে গেছে, তারই পুনরাবৃত্তি ফিরে ফিরে এসেছে ইতিহাসের পাতায়... এক একরকম আঙ্গিকে, আসন্ন যুদ্ধের দামামা রব নিয়ে। আমরা বার বার তাদের চিনতে ব্যর্থ হই, সতর্ক থাকতে ব্যর্থ হই। আমাদের এই নিশ্চিন্ত আত্মতৃপ্তিই কখনও ‘ফার্স্ট ডিভিশন’, কখনও উচ্চশিক্ষার সংশাপত্র।
এই ‘ভুল’ শব্দটাও কিন্তু বিদ্রুপ করতে বড়ো ভালবাসে। শুধু পরিকল্পিত কিছু কাজের অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়াই ভুল নয়, একদম সুপরিকল্পিত ভাবে ভ্রান্ত ধারণাকে প্রশ্রয় দিয়ে গ্রহণ করা সিদ্ধান্ত এবং তেমন ভ্রান্তির ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপও সমান ভুল। সব আলোচনা বা বিতর্কের ঊর্দ্ধে, সেই সব ভুল অকাট্য ‘ভুল’-ই থেকে যায়। সেই স্কুল থেকেই, কেউ ভুল করলে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সবার আগে আমরা হাসতে শিখে যাই। এক প্রতিষ্ঠিত ‘সঠিক’-এর ধারে কাছে না আসতে পারা ভুলের প্রাপ্য বিরাট লাল গোল্লা। আমরা বিদ্রুপ করে নিই খুব খানিক হেসে নিয়ে, আর ভুলও হাসতে শিখে যায় আমাদের ওপর। আমাদের হাসির মধ্যেই ভুল হাসছে ঠিক এই ভাবে।
কখনও নেপোলিয়ান বা হিটলারের রাশিয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত এক ‘ম্যামথ মিস্টেক’, আবার একদিকে এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে অন্ধ ব্যক্তি-সিদ্ধান্তের ভুলই ঘটনার গতি-প্রকৃতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে... ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাঁচিয়ে দিয়েছে স্বৈরাচারের কালো মেঘে ঢাকা অনন্ত দুঃস্বপ্নের হাত থেকে। কারও মস্ত বড়ো ভুল, বোধহয় এই ভাবে কারও জন্য মস্ত বড়ো ঠিক হয়ে যায়। ঠিক সেই ভাবে প্রতিষ্ঠিত সংস্কার আর আজন্ম মেনে নেওয়া প্রথাগুলোও তো সব কেমন বিচার-আলোচনার ঊর্দ্ধে নিজের মত করে ভুল-ঠিকের প্রচলিত সংবিধান আঁকড়ে বসে থাকে। এক ব্যক্তি, এক গোষ্ঠী অথবা এক সম্প্রদায়ের এক বা একাধিক ভুলই, বিস্তার পেতে পেতে সকলের মাঝে এমন এক ‘মহাকায় ঠিক’-এর রূপ নেয় যাকে লঙ্ঘন করা সাধারণ মানুষের কাছে এক দুরূহ হয়ে ওঠে। একটা সামাজিক ঢেঁকির এক দিকে বসে একজন বলেন ‘বিশ্বাস কখনও অন্ধ হয় না’ আর একদিকে বসে অন্য একজন বলেন ‘বিশ্বাসের আবার চোখ কি? বিশ্বাস অন্ধই’।
ভুল যেন গড়িয়ে গড়িয়ে একবার এর পক্ষ আর একবার ওর পক্ষ নিয়ে নিরন্তর ঢেঁকির ওঠা নামা চালু রেখে দেয়। আর এই রকম ছড়িয়ে থাকা ভুল... বারে বারে চেহারা পালটানো বহুরূপী ভুল, জড়াগ্রস্ত প্রাচীন ভুল, স্বার্থ আর অহংকারের ভুল... কিংবা নেহাত ভালো কিছু করতে গিয়ে ‘ব্যাকফায়ার’ হয়ে যাওয়া ভুলগুলো কখনও ডুব-সাঁতার দেয় আর কখনও মাথা তুলে ভেসে ওঠে বলেই বোধহয়... কালেভদ্রে কোনো প্রবল ঠিক সেই ভুলেদের বিরুদ্ধে লড়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। ভুলের অন্ধকার আছে বলেই, আলোর প্রয়োজন এত বেশি করে অনুভব করি আমরা। ভুলগুলোই কখনও সেই আলোর জ্বালানী, আবার ভুলের ফুঁ দিয়েই সেই আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে কত বার! তবু যারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে ভালোবাসি, যে ওই আলোই সার কথা; তারা ভুলের অন্ধকারকেও অস্বীকার করতে পারিনি। সেই আঁধারকে সমীহ করেই বার বার আলোর অন্বেষণ করতে হয়। সেই আলোর আভাস না পাওয়া গেলে, কালক্রমে কম্পমান অথবা ক্ষীণ হয়ে এলেও ‘ক্ষুদ্র আমি’ আর তার কাছে-দূরে সবকিছু কেমন বিপন্ন মনে হয়।
--- --- ---
আর তারপর... আশ্রমবাসিক পর্বের অপরাহ্নে, শোকাহত প্রাক্তন রাজ-দম্পতির সঙ্গে রাজমাতা (তখন নিশ্চিৎ রূপেই রাজমাতা) কুন্তীও বানপ্রস্থের পথে উদ্যত হলেন। পুত্রশোকে অর্ধমৃত ধৃতরাষ্ট্র-গান্ধারীর পক্ষে উত্তর-যুদ্ধ কালে পাণ্ডবদের আস্ফালন অসহনীয় হয়ে ওঠায়, তাঁদের এই সিদ্ধান্ত অনুভব করা কঠিন নয়। কিন্তু একদা ‘পরদত্ত অন্নপিণ্ডের’ প্রতি বিরূপ কুন্তী তাঁর সুযোগ্য ক্ষত্রিয় পুত্রদের বিজয়ের রাজভোগ হজম করতে পারলেন না কেন? সে কি কর্ণ-বিয়োগের শোকে? নাকি দ্বিধায়? নাকি কুণ্ঠিত হয়ে? পেছনে ফিরে যখন যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকিয়েছিলেন, সেই উত্তর হয়ত সেই দৃষ্টির মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন বিচক্ষণ ধর্মপুত্র, অন্দরমহলের সেই আখ্যান মহর্ষি ব্যাস সযত্নে আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে দিলেন।
আর তারপর... দাঙ্গাবিধ্বস্ত নোয়াখালীতে, ভাঙা কাচের টুকরো ছড়ানো মেঠোপথে খালি পায়ে এগোতে এগোতে, এক 'মহাত্মা' কিছুতেই ভেবে পেলেন না-- কেমন করে এই বিপুল প্রাণহানী রোধ করবেন।
আর তারপর... দিল্লীর কোনও এক হরিজন কলোনীতে মাথা নিচু করে বসে সাতাত্তর বছরের সেই বৃদ্ধ, অসহ ভারে ঝুঁকে পড়া কাঁধ আর চোখের দৃষ্টি নিয়ে মাটির মেঝেতে আঁকিবুকি করে যাচ্ছেন... উত্তর মিলছে না, অঙ্কটা যে ভাবে শুরু হয়েছিল... ধাপে ধাপে এসে এখন কেমন যেন হাতের বাইরে চলে গেছে... কোন ধাপে যে হিসেবের ভুল?! পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা বেজে উঠবে এখনই, ঠিক উত্তর কিছুতেই আর মেলানো হ’ল না। ঢং ঢং ঢং... বারো বার... মধ্য রাতের ঘন্টা...
“At the stroke of the midnight hour, when the world sleeps...”
[শ্রাবণ, ১৪২১]