বান্ধবী ১
একটা পাসওয়ার্ড দখলের পর
ঝাঁপিয়ে পড়বে মুছে ফেলতে!
মুছেই চলবে রোজ—
রেসের ঘোড়ার মত দাঁত বের করে
হাঁফাতে হাঁফাতে মুছতে চাইবে
ভয়ের টুকরোগুলো।
কৃপণ বৃদ্ধের মত সন্দেহের চোখে
দেখবে প্রতিটা গোলাপের পাপড়ি।
অথচ নাগালের বাইরেও কত পাসওয়ার্ড
ঘুড়ি হয়ে আছে
উড়ছে, ভাসছে, দুলছে—
আকাশে, তারে, গাছের ডালে।
ওড়ার স্বাদ পেলে,
পাসওয়ার্ডও আর তুচ্ছ থাকে না।
বান্ধবী ২
কখনও ছাদ, কখনও বারান্দা;
হয়ত এমনই আরও অনেক কিছুর—
তিন ভাগ জল।
এও এক পৃথিবী চেনা!
শিশুর বিস্ময় আর বালিকার কৌতূহল;
দুলেছি ক্যালেন্ডারের মত।
খোলা জানলা, আর সিলিং ফ্যান
না থাকলে যে কী হত!
তারপর, কী ঠিক করলে?
অবশিষ্ট এক ভাগ—
সবটুকুই কি রুপোর সিঁদুর কৌটো হয়ে যাবে?
বান্ধবী ৩
নীল কাগজ,
খাম
অথবা কালি
এভাবেই ঈথার সমুদ্রে আসা যাওয়া।
প্রিয় ফুল অথবা রঙের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে
বাড়ানো আঙুল, পেল নিমগ্ন চোখ।
খুচরো মুহূর্ত বিলিয়ে দাও—
বহুবর্ণ জল, ঢালো অসম পাত্রে।
অনুবীক্ষণ যন্ত্রে চোখে রাখো—
একটা গভীর 'হয়ত'র ভেতর ডুবে যাক
আমার খামোখা আঁকিবুঁকি।
উদাসীন
প্রতিটা বীতশোক মেঘ—
তোমাকে দেখাল শুষ্ক পল্লব,
আর আমাকে ছোঁয়াল নিম শিশির।
বান্ধবী ৪
মায়াজাল
বাসন্তী অথবা কাঁচা হলুদ;
এটুকুই এনেছিল খিলখিল স্রোত
তার ওপর মায়াকাজল...
তিন ধাপের দীঘিও যে কত গভীর
গলা না জড়ালে
বিশ্বাসই হ'ত না কোনও দিন!
শ্যাওলা ধরা সিমেন্ট খসতে খসতে
তিনটে ধাপই মুছে গেল।
ফ্ল্যাট দেখতে আসা তোমার কাছের মানুষ
জানলই না—
তোমারই সেই ডুবতে চাওয়া নূপুর
ভিতের নীচে এখনো অপেক্ষায় আছে।
বান্ধবী ৫
একটা কাচের বয়াম ভাঙার স্মৃতি
আচারের মতই রোদে শুকিয়েছিল
অনেকগুলো দুপুর।
কারও জিভ ছোঁয়ার আগেই
ফেলে দিতে হ'ল;
কাচগুঁড়ো মিশেছিল, স্মৃতির শিরায়।
আপন ভালো বোঝা পাগল
অতটাও আপন ভোলা হবে কী করে?
ঘুমচোখে অবহেলা রোদ
স্বপ্নের কাচগুঁড়ো কড়কড় করে।
আর কিছু শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মৃতদেহ
ঝাঁট দিতে দিতে তুমি ভাবো—
এরাও কি জিভ ছুঁতে চেয়েছিল কোনওদিন...
আমারই মতন?
বেঁধা কাচ পিঠে নিয়ে
চিৎ হয়ে শুতে নেই সাজানো খাঁচায়,
ভালো থাকা, তুমি এভাবেই পাশ ফিরে শোও।
[মাঘ, ১৪২৫]
খুব ভালো লেখা
ReplyDeleteভীষণ ভালোলাগল।
ReplyDeleteভালো লাগার কবিতা।
ReplyDelete