ঔরঙ্গজেব সিরিজের কবিতাগুচ্ছ

   
 Summer Night by the Beach : Edvard Munch



ঔরঙ্গজেব - ১


আক্রান্ত বলেই হয়ত, এইভাবে

           পরাক্রম শান দিয়ে যাই

ক্ষতগুলোই পাথর, অমসৃণ নদীতট

ঘষে ঘষে ধারালো হয়--

ছায়ানট

সম্মুখে আরও ক'টা ধাপ;

কিস্‌মৎ।


আক্রান্ত বলেই হয়ত

       হাঁত কাপে না, যেমন কাঁপত আগে।

ছুটতে ছুটতে সেই

প্রান্তর থেকে অনেকটা দূরে চলে যাই

বিস্মৃত হই, সরে সরে সেই গিরি কন্দরে

              শরনার্থী শিবির আমার নয়।


পাঁজরে খোঁচা দেয় নিজেরই খোলা তলোয়ার

আত্মসমর্পণ করো-- নিঃশর্ত

আমি নিঃশর্তকে নিঃস্বার্থ শুনি বার বার

হাসি... আরও সশব্দে হাসি।





ঔরঙ্গজেব - ২


বর্মটা নিরেট ইস্পাত

কিংবা কালো পাথরের মতই দেখায়

নিরাপদ দূরত্ব থেকে

দীর্ঘ ব্যবধানের অসদ স্পর্শ

তা কি যথেষ্ট হতে পারে?


কাঁটার ফলাগুলো ভেতরেও বিঁধে বিঁধে থাকে।

ক্ষতদান, তাকেও যে শিল্প

জেনেছি 

একাধিক  যুদ্ধে, সে রণনীতি অন্যরকম

আজও ক্লান্ত হয়ে ক্ষতগুলোকে দেখতে দেখতে

পাশ ফিরে চোখ বুঁজি

ক্ষতগুলো সারা রাত চোখ মেলে দেখে। 







ঔরঙ্গজেব - ৩ 


জাফরির এপার থেকেই

সূর্য দেখতে শিখেছি দু'বেলা 


নতজানু হয়ে 

নিয়মের প্রার্থনাকাল

আমার বন্ধ চোখ, বিহ্বল হাত দু'টো 

দেখো 


মুষ্টিবদ্ধ দৃঢ়তা, যে মুহূর্তে শিথীল

সেই মুহূর্ত তোমার 

বাকি উপশিরায় স্রোত, লবনাক্ত

সে ভাবেই চিনে নিক লোকে

যেইভাবে চিনেছে কৃপাণ


রাত-রেখা উত্তাল হাওয়া 

রেত শিরশির 

বঞ্জর জমিন ছুঁয়ে যাওয়া আঁধির মতো

যেমন দেখেছি তাঁবুতে তাঁবুতে

যেমন কেঁপেছি শৈত্যে

বর্মটা খুলে রেখে পাশে

ক্রমশ সে কাঁপুনিও

ঘুমিয়েছে হয়ে অচেতন,

অসম যুদ্ধের পর; আমারই মতন


আবার সেই, 

রোদ্দুর মাখব বলেই আঁকড়ে থেকেছি

দু মু'ঠো বালি

সূর্য দেখেছি রোজ 

ঈশায় ফজরে 

সূর্য দেখেছি রোজ

দাহগ্রস্ত দুর্গের ছাদে 

চোখের সে জ্বালাতেই 

তুমি আছো জেনে

পলক ফেলিনি কোনওদিন।


[পৌষ, ১৪২০]





বান্ধবী সিরিজের কবিতাগুচ্ছ




Painting -- Edvard Munch





বান্ধবী ১

একটা পাসওয়ার্ড দখলের পর
ঝাঁপিয়ে পড়বে মুছে ফেলতে!
মুছেই চলবে রোজ—
রেসের ঘোড়ার মত দাঁত বের করে
হাঁফাতে হাঁফাতে মুছতে চাইবে
ভয়ের টুকরোগুলো।
কৃপণ বৃদ্ধের মত সন্দেহের চোখে
দেখবে প্রতিটা গোলাপের পাপড়ি।

অথচ নাগালের বাইরেও কত পাসওয়ার্ড
ঘুড়ি হয়ে আছে
উড়ছে, ভাসছে, দুলছে—
আকাশে, তারে, গাছের ডালে।

ওড়ার স্বাদ পেলে,
পাসওয়ার্ডও আর তুচ্ছ থাকে না।





বান্ধবী ২

কখনও ছাদ, কখনও বারান্দা;
হয়ত এমনই আরও অনেক কিছুর—
তিন ভাগ জল।
এও এক পৃথিবী চেনা!

শিশুর বিস্ময় আর বালিকার কৌতূহল;
দুলেছি ক্যালেন্ডারের মত।
খোলা জানলা, আর সিলিং ফ্যান
না থাকলে যে কী হত!

তারপর, কী ঠিক করলে?
অবশিষ্ট এক ভাগ—
সবটুকুই কি রুপোর সিঁদুর কৌটো হয়ে যাবে?






বান্ধবী ৩

নীল কাগজ,
খাম
অথবা কালি
এভাবেই ঈথার সমুদ্রে আসা যাওয়া।

প্রিয় ফুল অথবা রঙের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে
বাড়ানো আঙুল, পেল নিমগ্ন চোখ।

খুচরো মুহূর্ত বিলিয়ে দাও—
বহুবর্ণ জল, ঢালো অসম পাত্রে।
অনুবীক্ষণ যন্ত্রে চোখে রাখো—
একটা গভীর 'হয়ত'র ভেতর ডুবে যাক
আমার খামোখা আঁকিবুঁকি।

উদাসীন
প্রতিটা বীতশোক মেঘ—
তোমাকে দেখাল শুষ্ক পল্লব,
আর আমাকে ছোঁয়াল নিম শিশির।






বান্ধবী ৪

মায়াজাল
বাসন্তী অথবা কাঁচা হলুদ;
এটুকুই এনেছিল খিলখিল স্রোত
তার ওপর মায়াকাজল...
তিন ধাপের দীঘিও যে কত গভীর
গলা না জড়ালে
বিশ্বাসই হ'ত না কোনও দিন!

শ্যাওলা ধরা সিমেন্ট খসতে খসতে
তিনটে ধাপই মুছে গেল।
ফ্ল্যাট দেখতে আসা তোমার কাছের মানুষ
জানলই না—
তোমারই সেই ডুবতে চাওয়া নূপুর
ভিতের নীচে এখনো অপেক্ষায় আছে।






বান্ধবী ৫

একটা কাচের বয়াম ভাঙার স্মৃতি
আচারের মতই রোদে শুকিয়েছিল
অনেকগুলো দুপুর।
কারও জিভ ছোঁয়ার আগেই
ফেলে দিতে হ'ল;
কাচগুঁড়ো মিশেছিল, স্মৃতির শিরায়।
আপন ভালো বোঝা পাগল
অতটাও আপন ভোলা হবে কী করে?

ঘুমচোখে অবহেলা রোদ
স্বপ্নের কাচগুঁড়ো কড়কড় করে।
আর কিছু শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মৃতদেহ
ঝাঁট দিতে দিতে তুমি ভাবো—
এরাও কি জিভ ছুঁতে চেয়েছিল কোনওদিন...
আমারই মতন?

বেঁধা কাচ পিঠে নিয়ে
চিৎ হয়ে শুতে নেই সাজানো খাঁচায়,
ভালো থাকা, তুমি এভাবেই পাশ ফিরে শোও।




[মাঘ, ১৪২৫]




নির্বাচিত লেখা

প্রিমিয়াম — জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

  ব্লে ডের অভ্যেসটা অনেকদিন হল কেটে গেছে। দাঁত দিয়েই কাজ চলে যায়— যেভাবে মুহূর্তও চলে যায়, টিক টিক শব্দ শোনা যাক বা না যাক। তবু, মাসে অন্ততঃ...

বহু পঠিত লেখাগুলি